সারা দেশের মতো পটুয়াখালীর বাউফল আসনেও রাত পোহালেই ভোটগ্রহণ। কে হবেন বিজয়ী, কে হাসবেন শেষ হাসি—এ প্রশ্ন ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক কৌতূহল, আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা।
বাউফল আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১২ হাজার ৭৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।
স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে—তরুণ ও নারী ভোট যে প্রার্থী বেশি পাবেন, শেষ হাসিটা তার মুখেই ফুটবে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ এবারের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন। একইভাবে নারী ভোটারদের মধ্যেও এ প্রতীকের প্রতি আগ্রহ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব বয়সী ভোটারদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হিন্দু ভোটারদের ভোট এবার দুই প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যেই ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার এর আগে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি মাত্র ২৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এলাকায় তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এখনো রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে বয়সের কারণে কিছুটা ক্লান্ত ভাব এবং দলীয় গ্রুপিং নিরসনে ব্যর্থতা তাকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। ফলে তরুণ প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের দলে দৃশ্যমান কোনো গ্রুপিং না থাকলেও মার্কাভিত্তিক ভোট তুলনামূলক কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ব্যক্তি হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তি ইমেজকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, তরুণ ও নারী ভোট—এই তিন সমীকরণই নির্ধারণ করবে বাউফল আসনে কে হাসবেন শেষ হাসি।
মন্তব্য করুন