সাভারের হেমায়েতপুর শিল্পাঞ্চলে ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সম্প্রতি ছড়িয়েছে, তা ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন তাঁর সমর্থক ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তাঁর নাম বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হেমায়েতপুর শিল্পাঞ্চলটি সাভারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র। এখানে অসংখ্য কারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে এলাকাটি ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন ব্যাপক, তেমনি প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের সক্রিয়তাও লক্ষণীয়। সমর্থকদের দাবি, এমন প্রেক্ষাপটে এলাকায় কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলেই রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম সামনে আনা হয়, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
মেহেদী হাসানের ঘনিষ্ঠরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। শিল্পাঞ্চলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা এবং দলীয় কার্যক্রমকে সুসংগঠিত রাখায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, এ কারণে এলাকায় তাঁর একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে, যা একটি মহলের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সমর্থকরা স্পষ্ট করে বলেন, অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি বা জুয়ার মতো কোনো অপতৎপরতার সঙ্গে মেহেদী হাসানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই। বরং এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার পক্ষেই তিনি অবস্থান নিয়েছেন। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন না করে তাঁর নাম প্রচার করা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শামিল বলেও মনে করেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবেই পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তারা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান।
সমর্থকদের প্রত্যাশা, যাচাই-বাছাই ছাড়া কারও নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশন করবে গণমাধ্যম। তাদের বিশ্বাস, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ পেলে সব ধরনের অপপ্রচারই ভেস্তে যাবে এবং প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য করুন