
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। এতদিন তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ বিষয়ে রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের ফলে দলের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়। এ অবস্থায় গঠনতন্ত্র অনুসারে দলীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগে রাত সাড়ে ৯টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান নিজেই। সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।
২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে দলের নেতৃত্ব সংকট মোকাবিলায় তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আসে।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’ ধারার (৩) উপধারায় বলা আছে—চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে বহাল থাকবেন। সে অনুযায়ী তারেক রহমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
দীর্ঘ সতেরো বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ অনেকটাই কেটে যায় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে এবং এতে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
এর আগে বিএনপি ঘোষণা দিয়েছিল, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো তিনি নিজেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণানুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে তার সক্রিয়তা শুরু হয়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে মায়ের নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা দৃশ্যমান হয়।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন, ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন