
বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জাতীয় গ্রিডে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড অর্জন করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্র জানায়, গেল ডিসেম্বর মাসে রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট ৬৪০ মিলিয়ন ইউনিট (এমইউ) বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইপিপি) মধ্যেও সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখে কেন্দ্রটি।
মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড দেশের মোট ৫ হাজার ৫৩১ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে প্রায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ সরবরাহ করেছে, যা টানা দ্বিতীয় মাসের রেকর্ড সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অর্জনের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির টেকসই পরিচালন সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জ্বালানি নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। গত দুই মাসে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন কয়লা খালাস করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন কয়লার মজুদ রয়েছে, যা আসন্ন পবিত্র রমজান মাসেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আমদানি করা কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কেন্দ্রটিতে অতি-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস সম্ভব হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় এখানে ফ্লু-গ্যাস ডিসালফারাইজেশন ইউনিট, ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর, ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি, ক্লোজড-সাইকেল কুলিং সিস্টেম এবং শূন্য তরল বর্জ্য নিঃসরণ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বৃহৎ সক্ষমতা, ধারাবাহিক উৎপাদন ও শক্তিশালী জ্বালানি ব্যবস্থাপনার কারণে জাতীয় গ্রিডে কম খরচে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে, যা শিল্প খাতসহ দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন