যশোর শহরের উপকণ্ঠে মুড়লি রেলক্রসিং সংলগ্ন মহাসড়কে একটি মাদ্রাসার নামে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, মোহাম্মদ আলী নামে ওই ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কের উপর টেবিল, সাউন্ড বক্স ও হ্যান্ড মাইক বসিয়ে পথচারী ও যানবাহন থেকে অর্থ সংগ্রহ করছেন।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, রাস্তার একাংশ দখল করে টেবিলের ওপর সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করে মাইকে মাদ্রাসা নির্মাণ ও শিক্ষার্থীদের ব্যয় নির্বাহের কথা বলে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা জানান, বহুদিন ধরেই ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে এভাবে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তা আমলে নেওয়া হয় না। স্থানীয়দের ভাষ্য, চাঁদা তোলার এ কার্যক্রম সবার চোখের সামনেই নিয়মিতভাবে পরিচালিত হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে মাদ্রাসার নামে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে সেটির কোনো সরকারি নিবন্ধন নেই বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী। ফলে বিষয়টি বৈধ অনুদান সংগ্রহ নয়, বরং অবৈধ চাঁদাবাজির শামিল—এমন অভিযোগ তাদের।
এছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, অতীতে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দেওয়া হতো। বর্তমানে কারও পৃষ্ঠপোষকতায় এ কার্যক্রম চলছে কি না, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সচেতন নাগরিকরা জানান, একাধিকবার তাঁকে সতর্ক করা হলেও তিনি চাঁদা তোলা বন্ধ করেননি। তাঁদের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্রের আশ্রয়ে থেকেই তিনি এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সমাজকর্মী ও সুধীজনেরা। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে যদি অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হয়, তবে তা শুধু আইনগত অপরাধই নয়, সমাজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে মহাসড়কে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে জনসাধারণ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।
মন্তব্য করুন