এ ফলাফলে রামপাল-মোংলা উপজেলায় ব্যাপক উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মতে, এ দুই উপজেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি নির্মূল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান অগ্রগতির জন্য শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন। তাই তারা মনে করছেন, শেখ ফরিদুল ইসলাম মন্ত্রী হলে এ অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। স্থানীয় নেতা ও সাধারণ ভোটাররা মনে করেন, দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন।
দিনমজুর শহিদুল বলেন, আমরা কাজ করে পেট চালাই, আমাদের কথা শুনার জন্য এবং আমাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য শক্ত অবস্থান দরকার। তাই আমরা চাই যেন শেখ ফরিদ ভাই আমাদের মন্ত্রী হন।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মৃধা ফারুকুল ইসলাম বলেন, এতো বড় ব্যবধানে জয়লাভ করা মানে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বড়। রামপাল ও মোংলা ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে উন্নয়নের জন্য আলাদা নজর দেওয়া প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি মন্ত্রী হলে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এলাকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, ক্লিন ইমেজের একজন সৎ, দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি যদি মন্ত্রিসভায় স্থান পান, তাহলে সরকার ও জনগণের মাঝে আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন হাওলাদার বলেন, শেখ ফরিদুল ইসলাম একজন পরীক্ষিত নেতা। রামপাল-মোংলাবাসী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। শেখ ফরিদুল ইসলাম ভাই মন্ত্রী হলে এসব খাতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, রামপাল-মোংলার মানুষ তাদের ভোটের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। সব সম্প্রদায়ের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করেছেন। আমরা দলীয়ভাবে আশা করছি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করবে। এতে রামপাল-মোংলা অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
বাঘবন্ধু সদস্য ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ মোঃ মারুফ বাবু বলেন, সুন্দরবনের সংরক্ষণ এবং উপকূলীয় মানুষের উন্নয়নে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে তার বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, তার দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতা বন ও পরিবেশের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় দেশের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনপদের মানুষের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন তিনি। সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন-এর চেয়ারম্যান হিসেবে বনজীবী, মৎস্যজীবী ও উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিনামূল্যে চক্ষু শিবির পরিচালনা করেছেন তিনি।
সর্বস্থরের মানুষের প্রাণের দাবী বাগেরহাট-৩ আসনে থেকে যেন শেখ ফরিদুল ইসলামকে মন্ত্রী করা হোক। নিজ নির্বাচনী ভোটার ও সাধারণ মানুষের দাবী, শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘ বছর যাবত বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে আজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিগত আমলে অন্যায় ও জুলুম সহ্য করে লড়াই সংগ্রাম করে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে তাই তাকে বিএনপির মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদানে জোড়ালো দাবী জানান তারা।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, মোংলা সমুদ্রবন্দর, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে বন ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ উপকূলীয় অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
এলাকাবাসীর বিশ্বাস শেখ ফরিদুল ইসলামকে মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হবে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মতে শেখ ফরিদুল ইসলাম একজন সৎ ও নীতিবান মানুষ। বিগত সময়ে তিনি দলের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন এবং দেশের ক্লান্তিলগ্নে অসামান্য ভুমিকা রেখেছেন। উপজেলার আইনশৃঙ্খলা ও জণকল্যাণের স্বার্থে, এলাকার উন্নয়নে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রী করা হোক এটাই বাগেরহাট-৩ আসানের মানুষের দাবি।
নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এই বিজয় শুধু আমার নয়, এটি বাগেরহাট-৩ আসনের মানুষের বিজয়। এ বিজয়ের মাধ্যমে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সুন্দরবন সংরক্ষণে কাজ করতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।