ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় এক ব্যবসায়ী পরিবারের ওপর হামলা, মারধর এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসা. নাজমা আক্তার সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাজমা আক্তার ও তাঁর স্বামী মিন্টু হাজারি দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুর কাঁচাবাজারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। একই বাজারের ব্যবসায়ী মো. সেলিম (ওরফে কসাই সেলিম), মো. রেজবি, মোসা. শারমিনসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বাজার কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই মূলত এই বিরোধের সৃষ্টি। একসময় মো. সেলিম বাজার কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে মিন্টু হাজারি সভাপতি নির্বাচিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরপর থেকে নাজমা আক্তার ও তাঁর পরিবারের ওপর বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যবসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে নাজমা আক্তারের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা বাড়িতে ঢুকেই নাজমা আক্তারকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ চালান। এতে তিনি আহত হন।
নাজমা আক্তার অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেয়। একই সময়ে তাঁর গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যা তিনি ছিনতাই হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় প্রধান অভিযুক্ত তাঁকে মামলা না করার জন্য হুমকি দেন। মামলা করলে প্রভাব খাটিয়ে তা মোকাবিলা করা হবে বলেও ভয় দেখানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক, তবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত কসাই সেলিম অতীতে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম সমরের ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে বিভিন্ন সময়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা গেছে। এ কারণে এলাকাবাসীর একাংশের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কীভাবে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস. ইমতিয়াজ বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক তথ্য যাচাই শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
মন্তব্য করুন