দিনাজপুরের হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন তার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অপহরণের অভিযোগের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও তাকে উদ্ধার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন এলাকাবাসী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে হিলি-জয়পুরহাট সড়কের মহিলা কলেজের সামনে এ মানববন্ধন ও অবরোধ শুরু হয়। এতে দিনাজপুর-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। এরপর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অবরোধে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত ৩১ মার্চ মেহের আলীকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রায় সাত বছর আগে বিচ্ছিন্ন হওয়া তার প্রথম স্ত্রী এবং তার ছেলে মিলে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয় বলে জানা যায়।
এ ঘটনায় মেহের আলীর বর্তমান স্ত্রী প্রথমে হাকিমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি অপহরণ হিসেবে উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধার বা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বজনরা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, মেহের আলীর সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তারা দ্রুত মেহের আলীকে উদ্ধার এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মেহের আলীকে তার স্ত্রী একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের আশ্বাসের পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সড়কে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এখনো উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন