খুবি প্রতিনিধি:
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর একাডেমিক ভবনে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন নামে পরিচিত ৩ নম্বর একাডেমিক ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগে আলোচনায় রয়েছে। নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম চললেও ভবনটির পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা দিন দিন শিক্ষাবান্ধবতা হারাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট চারটি একাডেমিক ভবন থাকলেও বর্তমানে তিনটিতে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং একটি ভবন এখনো নির্মাণাধীন। চারতলা বিশিষ্ট ৩ নম্বর একাডেমিক ভবনটিতে তিনটি স্কুলের অধীনে ৯টি ডিসিপ্লিন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি স্কুলের আওতাধীন আরও দুটি ডিসিপ্লিনের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অন্যান্য ভবনের তুলনায় এখানে শিক্ষার্থী ও লোকসমাগমের চাপ বেশি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এত বেশি ব্যবহার সত্ত্বেও ভবনটিতে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। অধিকাংশ বাথরুম অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে এবং অনেকগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কাঠামোগত সংস্কারের অভাবে ভবনটির সার্বিক পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আহমেদ মোস্তফা বলেন,
“এই একাডেমিক ভবনের সিঁড়ি, করিডর ও ক্লাসরুমের সামনে সব সময় ধুলাবালি ও ময়লা জমে থাকে। ওয়াশরুমগুলোর অবস্থা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

আরো পড়ুন...  রাকসু জিএস আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন

নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই পরিস্থিতি নিয়ে তারা চরম অসন্তুষ্ট। শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভবন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা টেকসই হয়নি এবং কিছুদিন পরই পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। অন্যান্য একাডেমিক ভবনের তুলনায় ৩ নম্বর ভবনের সুযোগ-সুবিধা অনেকটাই অপ্রতুল বলে তারা অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানান। তাদের মতে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বল্পসংখ্যা এবং মূল প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি ও আধুনিকায়নের অভাবই ভবনটির বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিস কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে ভবনটির উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে এবং একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পানছড়ি সীমান্তে গোলাবারুদ উদ্ধার

ভাণ্ডারিয়ায় পরিবার পরিকল্পনায় অনিয়মের অভিযোগ

মহিপুরে যুব অধিকার পরিষদ সভাপতির পদত্যাগ

সেচ সংকটে মাঠে এমপি বুলবুল

ইসলামপুরে বিএনপি নেতাদের জামায়াতে যোগদান

কাঠালিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতা

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

১০

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

১১

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

১২

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

১৩

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

১৪

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

১৫

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১৬

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১৭

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

১৮

কুলিয়ারচরে মামলা পরবর্তী হুমকির অভিযোগ

১৯

কুলিয়ারচরে কৃষকের বাড়িতে হামলা, আহত ৫

২০