গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেছেন। এ সময় উত্তেজিত শ্রমিকদের সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ মোতায়েন করা হলে বিকেলে পাওনা পরিশোধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাটি ঘটে কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় অবস্থিত রিপন নীট ওয়্যার লিমিটেড কারখানায়। শ্রমিকরা জানান, গত তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল এবং বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে তারা প্রথম দফায় কর্মবিরতি শুরু করেন। সেদিন বিকেল ৫টার দিকে মালিকপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে তারা কারখানা ত্যাগ করেন।
তবে দাবির সুরাহা না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা আবারও কারখানায় এসে কর্মবিরতি শুরু করেন। সকাল ৯টার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাওনা পরিশোধ নিয়ে কারখানার কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে শ্রমিকদের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা কয়েকজন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং কারখানার ভেতরে ভাঙচুর চালান। পরে তারা এসেম্বলি পয়েন্টে অবস্থান নেন।
খবর পেয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শিল্প পুলিশ-২ কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান বলেন, “কারখানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বকেয়া নাইট বিল পরিশোধ শুরু হলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে যান।”
কারখানার কাটিং সেকশনের এক অপারেটর নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ডিউটি করেন। কিন্তু নিয়মিত নাইট বিল পরিশোধ করা হয় না। এমনকি রমজান মাসেও রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে একই সেকশনের ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, “শ্রমিকরা বুধবার একই দাবিতে আন্দোলন করেছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে তারা স্টাফদের ওপর হামলা চালিয়ে কারখানায় ভাঙচুর করে। আমি কোনোমতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।”
এ বিষয়ে কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, তিন মাসের বকেয়া নাইট বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার মধ্যে এক মাসের বিল পরিশোধের প্রস্তাব দেওয়া হলেও শ্রমিকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে মালিকপক্ষ তিন মাসের নাইট বিল এবং রোববারের মধ্যে বাৎসরিক ছুটির বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বিকেল ৩টার দিকে নাইট বিল পরিশোধ শুরু হয় বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্রুত পাওনা পরিশোধ সম্পন্ন হলে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। তবে শ্রমিকদের দাবি পূরণে দেরি হলে ভবিষ্যতে আবারও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন