
খুলনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বিভিন্ন কর্মকর্তার দপ্তর ফাঁকা দেখা গেছে। এর ফলে প্রশাসনিক সেবা প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনের চিত্র কিছুটা পরিবর্তিত হলেও দুপুরের আগ পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল না। ঊর্ধ্বতন শিক্ষক-কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বড় অংশ নিজ নিজ দপ্তরে অনুপস্থিত ছিলেন। এতে বিশেষ করে ওমরাহ ও হজ্জের জন্য আগামী ৬ তারিখ পর্যন্ত ছুটিতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, এবং ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নেওয়া ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. নাজমুস সাদাত উপস্থিত ছিলেন না।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯০–এর ৫১(২) ধারা অনুযায়ী, শিক্ষক বা কর্মকর্তা রাজনৈতিক মত প্রকাশে স্বাধীন হলেও, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারেন না এবং কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরি, পরিছন্ন কর্মী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, আজ তারেক রহমানের জনসভায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গিয়েছেন, ফলে দপ্তরগুলোতে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সমাবেশ নগরীর খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশকে ঘিরে এলাকার আশপাশে জনসমাগম বেড়ে যায়, যা স্থানীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক শিক্ষার্থী জানান, “সকাল থেকে দপ্তরে এসেও কাজ করতে পারিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা না থাকায় আমাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।”
স্টেট শাখার পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, তিনি সমাবেশস্থলে গিয়েছিলেন, কিন্তু উদ্দেশ্য ছিল ট্রেজারারের বাসায় দাওয়াতে অংশগ্রহণ। যেহেতু ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুর উন নবীর বাসা সমাবেশস্থলের পাশে, খাওয়া দেওয়ার পর উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে সমাবেশস্থল ঘুরে দেখেছেন।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সচিব জানান, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল মেয়ের সঙ্গে দেখা করা, তাই তিনি সমাবেশে ছিলেন। ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নুর উন নবীও বলেন, তার বাসা সমাবেশস্থলের পাশেই থাকায় আলাদা করে উপস্থিত হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না এবং কোনো দাওয়াতের আয়োজনও হয়নি। তবে তিনি নিশ্চিত করতে পারছেন না, এটি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইনে প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক মিছিল, সভা, সমাবেশ, স্লোগান দেওয়া বা রাজনৈতিক নেতাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নেই। তবে বাইরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশগ্রহণকে প্রচারণার আওতায় গণ্য করা হয় না, তাই এটি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।
এ ঘটনা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনিক সেবা প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে, এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তা উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য করুন