দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে। এতে দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকা জেলেরা আবারও ইলিশ ধরার আশায় নদীতে নামতে প্রস্তুত হয়েছেন। জেলাজুড়ে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি জেলে এ রাতে নদীতে নামবেন বলে জানা গেছে।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে প্রায় ৯ হাজার নিবন্ধিত জেলে এই সময় মাছ ধরতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ষাটনল, বাবুবাজার, মোহনপুর, এখলাশপুর, জহিরাবাদ ও আমিরাবাদ এলাকার জেলেপাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, জেলেরা জাল মেরামত, নৌকা সংস্কার ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘদিন পর নদীতে নামার অপেক্ষায় অনেকের মধ্যেই ফিরে এসেছে উৎসবের আমেজ।
বাবুবাজার মালোপাড়া এলাকার জেলে টিটু বর্মন বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেও সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। এখন আবার জাল-নৌকা প্রস্তুত করেছি, নদীতে নামার অপেক্ষায় আছি।”
মোহনপুর গ্রামের জেলে আবুল হোসেন জানান, “নৌকা ও জাল মেরামতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। ইলিশ পেলে ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে, না হলে বিপদে পড়তে হবে।”
ফতোয়াকান্দি গ্রামের মাসুদ মিয়া বলেন, “ইলিশের আশায় ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। আমার নৌকায় সাতজন কাজ করে। মাছ না পেলে কিস্তির চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।”
জাটকা সংরক্ষণ অভিযানের বিষয়ে মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জানান, দুই মাসে মোট ৬০টি মামলা, ৭টি প্রসিকিউশন এবং ১৬৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১ কোটি ৬৫ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ১২০০ মিটার অন্যান্য জাল জব্দ করা হয়। এছাড়া ৪২টি নৌকা ও ৭টি বাল্কহেড আটক করা হয়েছে এবং ১৭৩৫ কেজি মাছ জব্দ করা হয়।
মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, জাটকা সংরক্ষণে ১১০টি অভিযান ও ১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৬৫ জনকে কারাদণ্ড, ৩৬টি নৌকা জব্দ এবং ৫২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ২৫টি বেহুন্দী জাল ধ্বংস এবং প্রায় ৩ টন জাটকা জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভয়াশ্রম এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে জাটকা সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মতলব উত্তর উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, জাটকা রক্ষায় সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা যাতে নিয়ম মেনে মাছ আহরণ করে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন