বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় বাজার কমিটির অফিসে ডেকে এনে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর ওই ব্যবসায়ীর স্বর্ণের দোকানে বাজার কমিটির সিলযুক্ত তালা লাগিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী অপু কর্মকার (৫২) বুধবার রাতে কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি সাইনবোর্ড বাজারে অবস্থিত ‘রুপশ্রী জুয়েলার্স’ নামের একটি স্বর্ণের দোকানের মালিক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাইনবোর্ড বাজারে প্রায় চার দশক ধরে স্বর্ণের ব্যবসা করে আসছেন অপু কর্মকার। বাজারে তার মালিকানাধীন আরও তিনটি দোকান রয়েছে, যেগুলো তিনি ভাড়া দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি স্থানীয় বাজার কমিটির সহ-সম্পাদক ও বিএনপি নেতা মামুন শেখ ওই দোকানগুলোর ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অপু কর্মকারের দাবি, নির্বাচনের কিছুদিন আগে প্রথমবার ভাড়ার বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলেও পরে স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসা করা হয়। তবে চলতি মাসে আবারও নতুন করে ভাড়া দাবি করতে শুরু করেন মামুন শেখ। বুধবার সন্ধ্যায় তার ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়া চাইলে অপু কর্মকার তাদের ভাড়া দিতে নিষেধ করেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মামুন শেখ তার লোকজনের মাধ্যমে অপু কর্মকারকে বাজার কমিটির অফিসে ডেকে নেন।
অপু কর্মকার অভিযোগ করেন, অফিসে নিয়ে যাওয়ার পর ভাড়া দিতে নিষেধ করার কারণ জানতে চাওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে তার নিজের দোকানের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি দৌড়ে দোকানের ভেতরে ঢুকলেও সেখানে ঢুকেও তাকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন। এরপর তার দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে সৎভাবে ব্যবসা করে আসছি। হঠাৎ করে জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাড়া দিতে নিষেধ করায় আমাকে মারধর করা হয়েছে এবং দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ ঘটনায় অপু কর্মকারের স্ত্রী অর্পিতা কর্মকারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তার স্বামী একজন নিরীহ ব্যবসায়ী। প্রভাব খাটিয়ে তার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে জোর করে ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। মারধরের ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মামুন শেখ। তিনি বলেন, অপু কর্মকারের ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে বাজার কমিটির অফিসে ডাকা হয়েছিল। সেখানে কথাকাটাকাটির সময় তাকে দু-একটি ধাক্কা দেওয়া হতে পারে, তবে মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে সাইনবোর্ড বাজার কমিটির সভাপতি ও রাড়িপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার রেজাউল হোসেন বলেন, কোনো ব্যবসায়ীকে মারধর করা বা তার দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া সঠিক কাজ নয়। বিষয়টি নিয়ে বাজার কমিটির জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিষয়টির দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন