পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা শিল্পী হালদারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দপ্তরের অধীনস্থ কয়েকজন মাঠকর্মী নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের পরিদর্শক আবদুল মতিন, তেলিখালী ইউনিয়নের পরিদর্শক সোহাগ হাওলাদার এবং একই পরিবারের সদস্য পরিবার কল্যাণ সহকারী শারমিন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে অনিয়ম করছেন। তারা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকেও মাস শেষে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া, পরিবার কল্যাণ সহকারী আলো রানী অবসর-পূর্ব ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার পরও তার প্রাপ্য লাম্পগ্রান্ট এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে দপ্তরের সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতা ও এলাকাবাসী।
অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৫ মার্চ বিভাগীয় পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ আকস্মিকভাবে দপ্তর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে অফিসে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এমনকি একাধিকবার অফিস তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে বলেও জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় কেবল শোকজ নোটিশ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কিছু কর্মকর্তা নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও পরে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে উপস্থিতি দেখান। এমন অনিয়মের সত্যতা পরিদর্শনকালে ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
অন্যদিকে, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। বলা হচ্ছে, বরাদ্দ ছাড়াই ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (আইবাস++) থেকে ভ্রমণ ভাতার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে বিতরণ না করে তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, অফিসের মোটরসাইকেল অকেজো থাকা সত্ত্বেও তার নামে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিল্পী হালদার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কোনো অনিয়ম করা হয়নি এবং কর্মচারীদের অনুপস্থিতির বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপ-পরিচালক তুহিন কান্তি ঘোষ বলেন, বরাদ্দের প্রক্রিয়া ও মাঠপর্যায়ের তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর বর্তায়। তিনি আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও সেই প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি। বিভাগীয় পরিচালক জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি থাকায় নতুন করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং দীর্ঘসূত্রতায় তদন্ত কার্যক্রম স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন