পটুয়াখালীর মহিপুর থানা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ও জেলা কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান আকস্মিকভাবে সংগঠনের সব ধরনের পদ ও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে তিনি সংগঠনের জেলা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি সংগঠনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে উল্লেখ করেন যে, ব্যক্তিগত কারণে তিনি সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি মহিপুর থানা শাখার সভাপতির দায়িত্ব এবং পটুয়াখালী জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকেও অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পদত্যাগপত্রে মো. সিদ্দিকুর রহমান লেখেন, “আমি ব্যক্তিগত কারণে, দলের প্রতি সম্মান রেখে সকল পদ-পদবী থেকে পদত্যাগ করলাম।” তার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত কারণই তার এ সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রুম্মান পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “আমরা সিদ্দিকুর রহমানের পদত্যাগপত্র পেয়েছি। তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিষয়টি আমরা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহিপুর থানা যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই তেমন সক্রিয় ছিল না। ফলে সভাপতির এ পদত্যাগ সংগঠনের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, মহিপুর থানা যুব অধিকার পরিষদের এই কমিটিতে এটিই প্রথম পদত্যাগ নয়। এর আগে গত ২৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে একই কমিটির সাধারণ সম্পাদকও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে পরপর দুই শীর্ষ নেতার পদত্যাগে সংগঠনের নেতৃত্ব কাঠামোয় এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মতে, নেতৃত্বে এই ধারাবাহিক পরিবর্তন সংগঠনের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, মহিপুর থানা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতির আকস্মিক পদত্যাগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
মন্তব্য করুন