
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন শেষে যশোরের ছয়টি আসনে মোট ৩৪ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিন যশোরের বিভিন্ন আসন থেকে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব। তিনি জানান, নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা থেকে প্রত্যাহারকারী প্রার্থীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী তিন প্রার্থী হলেন—যশোর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসান জহির, যশোর-৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী খালিদ সাইফুল্লাহ এবং যশোর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ। এ ছাড়া যশোর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আলাদা করে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন না করায় কারিগরি কারণে তার নাম ব্যালটে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
এ সব প্রক্রিয়া শেষে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্তভাবে ৩৪ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন। নির্বাচন অফিস জানায়, বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতীক হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে প্রার্থীরা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
এদিকে যশোরের কয়েকটি আসনে নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন নির্বাচনী মাঠে থাকায় সেখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বেশ জমজমাট।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলার ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ টিম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করবেন।
প্রতীক বরাদ্দ ও চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে যশোরে নির্বাচনী আমেজ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিনে প্রার্থীদের গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও প্রচারপত্র বিতরণের মাধ্যমে জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন