অনলাইন ডেস্কঃ
৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

যে কারণে হাদির ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন হত্যাকারীরা, জানাল ডিবি

শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার কারণ
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার—এমনটাই জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ, ডিবি। ডিবির দাবি, পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশেই গুলি করে হত্যা করা হয় হাদিকে।

মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা শাখা) মো. শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন সমসাময়িক রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন পরিচিত মুখ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তিনি একটি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। বর্তমান সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের অতীতের নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত জোরালো ও সমালোচনামূলক বক্তব্য দিতেন। এসব বক্তব্যের কারণেই ছাত্রলীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

ডিবি জানায়, হাদিকে সরাসরি গুলি করা ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। এছাড়া ঘটনার পর আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, যিনি পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন।

আরো পড়ুন...  পাঁচবিবিতে ইয়ানুর হত্যা মামলার প্রধান আসামি র‍্যাবের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং ভুক্তভোগীর পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বক্তব্যের ধরন বিশ্লেষণ করে তদন্তে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শরিফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মামলার তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর বক্স কালভার্ট এলাকায় রিকশায় করে যাওয়ার সময় শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি খুব কাছ থেকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্রের।

এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তদন্ত শেষে ডিবির এই চার্জশিট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১০

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১১

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

১২

কুলিয়ারচরে মামলা পরবর্তী হুমকির অভিযোগ

১৩

কুলিয়ারচরে কৃষকের বাড়িতে হামলা, আহত ৫

১৪

বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ

১৫

গৌরীপুরে নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১৬

নলডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

১৭

সেনবাগে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

১৮

গৌরীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

১৯

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

২০