মো: মুকিম উদ্দিন, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

লন্ডনে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউকে হিন্দু অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বুধবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে শত শত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিন্দু এবং পিআইও অংশগ্রহণ করেন।

প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশে হিন্দুদের গণহত্যার নিন্দা জানাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিক্ষোভ অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজনীতির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন এমপিও উপস্থিত ছিলেন। হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড পোপাট এবং ব্যারোনেস ভার্মা, হাউস অব কমন্সের এমপি নাভেন্দু মিশ্রা ও জিম ডিকসন তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন।

লেবার পার্টির এমপি লোকমারফি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন এবং হত্যার খবর পাওয়ার পর অনেক বাংলাদেশি নাগরিক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। লেবার সরকার এই বিষয়টি নিয়ে জড়িত রয়েছে এবং আমরা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাপ অব্যাহত রাখব।”

প্রাক্তন লেবার এমপি বীরেন্দ্র শর্মা বলেন, “আমি ব্রিটিশ সরকার এবং মানবাধিকারের জন্য কাজ করা সব শক্তিকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে এবং পুনরাবৃত্তি রোধ করে। হিন্দু সম্প্রদায় যেন বাক স্বাধীনতা ও উপাসনা স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “ব্রিটিশ সরকারের উচিত লন্ডনের বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানানো। সরকার যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, আরো কিছু করা যেতে পারে।”

আরো পড়ুন...  বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

বীরেন্দ্র শর্মা এই প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৩০–৪০ শতাংশ হিন্দু ছিল, যা এখন মাত্র সাত শতাংশ। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা, মানবাধিকার এবং বাক স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে।”

বিক্ষোভের আয়োজনকারী ইউকের বাংলাদেশ হিন্দু অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অলকচন্দ্র বলেন, “আমরা ব্রিটেনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি, কিন্তু ব্রিটিশ সরকার কেন এই সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে না তা আমরা জানতে চাই।”

বিক্ষোভে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর গণহত্যার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাহার, সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর মুক্তি, মন্দির রক্ষা এবং গণপিটুনির শিকার দিপু চন্দ্র দাসের জন্য ন্যায্য বিচার দাবির প্লেকার বহন করা হয়।

বিক্ষোভ অনুষ্ঠানটি মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হিলিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা শুরু

জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক কমিটি গঠন

পানছড়ি সীমান্তে গোলাবারুদ উদ্ধার

ভাণ্ডারিয়ায় পরিবার পরিকল্পনায় অনিয়মের অভিযোগ

মহিপুরে যুব অধিকার পরিষদ সভাপতির পদত্যাগ

সেচ সংকটে মাঠে এমপি বুলবুল

ইসলামপুরে বিএনপি নেতাদের জামায়াতে যোগদান

কাঠালিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতা

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

১০

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

১১

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

১২

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

১৩

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

১৪

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

১৫

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

১৬

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

১৭

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১৮

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১৯

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

২০