খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে চলবে নানা সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির প্রথম দিন ১২ এপ্রিল বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ‘আল্পনা উৎসব’। এ আয়োজনে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসজুড়ে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী আলপনা আঁকার মাধ্যমে উৎসবের আবহ তৈরি করবেন। রঙের ছোঁয়ায় সাজানো হবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যা নববর্ষের আগমনী বার্তাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।
দ্বিতীয় দিন ১৩ এপ্রিল, চৈত্র সংক্রান্তির দিনে থাকছে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনা। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, যেখানে লাঠিখেলা, দড়ি টানাটানি, হাঁড়িভাঙাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খেলায় অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা। একই দিন বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে গান, নৃত্য ও নাট্য পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। এছাড়া বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, যা আকাশজুড়ে রঙিন আনন্দ ছড়িয়ে দেবে।
তৃতীয় দিন ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের মূল আয়োজন শুরু হবে সকাল ৯টায় মেলার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। দিনব্যাপী এ মেলায় থাকবে বিভিন্ন স্টল, যেখানে স্থান পাবে ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক উপকরণ। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ থেকে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যা পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করবে। এ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও নানা সাজে সজ্জিত হয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানাবেন।
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরও একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশগ্রহণ করবে এবং দেশীয় সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরবে।
সার্বিকভাবে, চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষকে ঘিরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। তিন দিনের এই উৎসবমুখর কর্মসূচি ক্যাম্পাসে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির এক অনন্য আবহ সৃষ্টি করবে।
মন্তব্য করুন