রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় ফিল্মি স্টাইলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের আমরুলবাড়ি আমবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকে দোকানপাট বন্ধ রেখে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম বদরগঞ্জ থানায় আবু তাহেরকে প্রধান আসামি করে মোট নয়জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, শনিবার বিকেলে আবু তাহের তার সহযোগীদের নিয়ে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রসহ তার হোটেলে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, যার ফলে তিনি আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “এই ছোট হোটেল দিয়েই আমার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়। হামলার ঘটনায় আমি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।” তিনি আরও জানান, হামলার সময় দুর্বৃত্তরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আশপাশের অন্যান্য দোকানদারদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে হামলাকারীরা আমবাগান এলাকায় তাণ্ডব চালায় এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরদিন রবিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তার অভাবে উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছেন।
এদিকে, হামলার পরও হুমকি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, রবিবার দিনেও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। “তারা বলছে, পরবর্তীতে আরও লোক নিয়ে এসে আমাদের দেখে নেবে। আমরা এখন চরম আতঙ্কে রয়েছি,” বলেন তিনি।
তৌহিদ বাবু নামে এক দোকানদার বলেন, “শনিবার রাতে এক দফা হামলা চালিয়ে তারা চলে যায়। কিন্তু আজ রবিবার আবার ফোনে হুমকি দিচ্ছে—আমরা কীভাবে ব্যবসা করি তা তারা দেখে নেবে।”
আরেক ব্যবসায়ী জুলফিকার বলেন, “সন্ত্রাসীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা দোকান খুলতে পারছি না। তারা অপরাধ করেও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আমাদের ভয় দেখাচ্ছে।”
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, ব্যবসায়ীদের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন