আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাট–৪ (মোড়েলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে বইছে ভোটের হাওয়া। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে নির্বাচন ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মূল সমীকরণ দাঁড়িয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর লড়াইয়ে।
মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সোমনাথ দে এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিমের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।
ধানের শীষের প্রার্থী সোমনাথ দে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তৃণমূলের সমর্থন ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে পুঁজি করে তিনি বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম সুসংগঠিত কর্মীবাহিনী নিয়ে মাঠে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তার পক্ষ থেকে প্রচারণায় বাধা ও কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
এ আসনের অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন— কাজী খায়রুজ্জামান শিপন (স্বতন্ত্র, হরিণ), ওমর ফারুক (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হাতপাখা) এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ খান (জাসদ, তারা)। তারা প্রচারণায় সক্রিয় থাকলেও ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরাই।
ভোটাররা বলছেন, দীর্ঘ সময় পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় তারা প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, সততা ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নারী ও তরুণ ভোটাররা এ আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন এবং জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব, বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বাগেরহাট–৪ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা ও হিসাব-নিকাশে জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। তবে জয়–পরাজয়ের বাইরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা— উৎসবমুখর পরিবেশ যেন ভোটের দিন পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকে।
মন্তব্য করুন