চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) পৃথক দুটি অভিযানে ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ১৭৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার এবং একজনকে আটক করেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) রাতভর সীমান্তবর্তী এলাকায় দুটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথম অভিযানে কিরণগঞ্জ বিওপির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তের মেইন পিলার ১৭৭ থেকে প্রায় ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ছোট বিশ্বনাথপুর গ্রামে অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় ওই গ্রামের বাসিন্দা লিটু মিয়ার একটি মসলা মিলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি গোয়াল ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সন্দেহজনক অবস্থায় মো. ইব্রাহিম (৫০) নামে একজনকে আটক করা হয়। তিনি ছোট বিশ্বনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মো. মান্নানের ছেলে।
বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে ১১টি হলুদ ও মরিচ গুঁড়ার বস্তা জব্দ করে। পরে বস্তাগুলো তল্লাশি করে তার ভেতর থেকে ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত ৭৪ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘Eskuf DX’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদকগুলো মসলার বস্তার ভেতরে লুকিয়ে সীমান্ত দিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে একই রাতে সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮৫/১-এস এর কাছাকাছি, প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের একটি আমবাগানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে সেখান থেকে আরও ১০০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘Eskuf DX’ সিরাপ জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য এবং আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
বিজিবি সূত্র আরও জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। গত তিন মাসে এই ব্যাটালিয়নের অভিযানে প্রায় ৪ হাজার বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ১০ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “দেশের যুবসমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়রা মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এমন ধারাবাহিক অভিযান মাদক চোরাচালান দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সীমান্ত অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।
মন্তব্য করুন