
যশোরে পৃথক অভিযানে দুই চিহ্নিত নারী মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অভিযানে গাঁজা ও ইয়াবাসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যজনের বিরুদ্ধেও নতুন মামলা যুক্ত হওয়ায় তার মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টিতে।
ডিবি সূত্র জানায়, বুধবার (তারিখ উল্লেখ নেই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া কয়লাপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিলি বেগমকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার সোহরাব হোসেন ওরফে ছোটর স্ত্রী। পুলিশের দাবি, শিলি বেগম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গোপনে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন এবং ইয়াবার ডিলার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর উপপরিদর্শক বাবলা দাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। রায়পাড়া কয়লাপট্টি এলাকায় ছোটর ভাইপো আব্দুল খালেকের বাড়ির সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় নারী ডিবি সদস্যদের মাধ্যমে তার দেহ তল্লাশি করে ৭৫ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানা-য় তার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে তার বিরুদ্ধে ১৭টি মাদক মামলা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের রেলগেট মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক অভিযানে বিজরী সুলতানা বিথি নামে আরেক নারী মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তিনি রেলগেট রায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জাহাঙ্গীরের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
ডিবি জানায়, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তার হাতে থাকা একটি পলিথিন ব্যাগ তল্লাশি করে ৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ জানায়, বিজরী সুলতানা বিথির বিরুদ্ধেও এর আগে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, যশোরে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চিহ্নিত মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শহর ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করা হচ্ছে। তবে সচেতন মহল মনে করছে, শুধু গ্রেপ্তার নয়—মাদক সরবরাহের মূল উৎস ও পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে এই অবৈধ বাণিজ্য কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন