কক্সবাজারের টেকনাফে নৌবাহিনী এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে। হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে ২ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। উদ্ধারকৃত ইয়াবা পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, হ্নীলা এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্র বিপুল পরিমাণ ইয়াবা মজুত করে রেখেছে। চক্রটি টেকনাফে ইয়াবা বিক্রি ও পাচারের পরিকল্পনা করছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে নৌবাহিনীর বিশেষ আভিযানিক দল রঙ্গীখালী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় মাদক কারবারিদের আস্তানার ২টি সাদা রঙের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলো খতিয়ে দেখার পর তাতে ২ লাখ ৩০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এই পরিমাণ ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা নৌবাহিনীর বিশেষ অভিযানকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নৌবাহিনী জানায়, অভিযানটি মূলত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংগঠিত করা হয় এবং এতে টেকনাফ অঞ্চলে মাদক বিক্রি ও পাচারকারী চক্রের কার্যক্রমকে কঠোর ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা দ্রুত স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
টেকনাফে ইয়াবা পাচার রোধে নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার, চোরাচালান ও অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। হ্নীলা ও আশেপাশের এলাকায় অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টেকনাফে ইয়াবা পাচারকারী চক্রের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য নৌবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টা স্থানীয় জনগণের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
নৌবাহিনী কর্মকর্তা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে আমরা সফলভাবে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছি। এটি স্থানীয় এলাকায় মাদক কারবারি চক্রের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।”
টেকনাফে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে নৌবাহিনী জানিয়েছে। তারা জানান, সীমান্তবর্তী অঞ্চলকে মাদক মুক্ত রাখতে নৌবাহিনী সর্বদা সজাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, টেকনাফ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মাদক ক্রাইমের একটি গুরুত্বপূর্ণ হটস্পট হিসেবে পরিচিত। সেখানকার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইয়াবা এবং অন্যান্য মাদক পাচার হচ্ছে। নৌবাহিনীর এই অভিযানের ফলে স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও মাদক মুক্ত পরিবেশ আশা করছে।
মন্তব্য করুন