
উপকূলীয় জনপদে নিরাপদ পানির সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পালিত হয়েছে বিশ্ব পানি দিবস-২০২৬। সামাজিক ও মানবিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর আলাউদ্দিন মার্কেট এলাকায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছরের বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ছিল— “পানি প্রবাহ যেখানে, সাম্যের হাসি সেখানে”। এই প্রতিপাদ্যের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুল হালিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এম. এম. রবিউল ইসলাম, ইয়ুথ প্লান বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মনিরুল ইসলাম বাবু, গবেষক ও সাংবাদিক পিযুষ বাউলীয়া, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মাস্টার আব্দুল্লাহ আল-মামুন, জিএম দেদারুল আলম, জিএম রবিউল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমান উল্লাহ, সংগঠনের সহ-সভাপতি সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত, বুড়িগোয়ালিনী নৌ থানার সদস্য মহাসিন আলম ও হোসেন আলীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, পানি ছাড়া কোনো প্রাণীর টিকে থাকা সম্ভব নয়। অথচ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নিরাপদ পানির সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, দেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলায় প্রায় ৩.৯ কোটি মানুষ নিরাপদ পানির সংকটে ভুগছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এসব এলাকায় পানির লবণাক্ততা অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে শুধু মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে না, বরং কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণবৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
বক্তারা আরও বলেন, লবণাক্ততার কারণে মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে এবং অনেক জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। একইসঙ্গে মিঠা পানির মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, পুকুর ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং গবাদিপশুও লবণাক্ত পানি পান করে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও এর জীববৈচিত্র্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অনুষ্ঠানে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়, যা স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচি উপকূলীয় অঞ্চলের পানি সংকট বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন