জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পরও তীব্র জ্বালানি সংকট জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। শিক্ষক, সাংবাদিক, কৃষক ও খাদ্যপণ্য বিতরণকারীরা তেলের অভাবে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছেন।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ছুটির পর নিয়মিত পাঠদান শুরু হলেও মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেল না পাওয়ায় সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক বিপুল রানা বলেন, “তেল না পেলে দূরের পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি আমরা চাই না।”
সাংবাদিকরাও একই সমস্যায় পড়েছেন। রোকনুজ্জামান সবুজ জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে সময়মতো সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর।
অন্যদিকে, কৃষকরা ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাহত হচ্ছেন। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফসলের ফলন কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহকেও প্রভাবিত করতে পারে।
খাদ্যপণ্য বিতরণকারীরাও তেলের সংকটে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছেন। তাদের মতে, পণ্য সরবরাহ, মনিটরিং ও অর্ডার ব্যবস্থাপনা মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল। তেল সংকটে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। বিক্রয় প্রতিনিধি জোটের প্রধান উপদেষ্টা ইব্রাহিম খলিল বলেন, “তেলের সংকটে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, ফলে চাকরির নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, না হলে শিক্ষা কার্যক্রম, সংবাদ পরিবেশন, কৃষিকাজ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ—সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
মন্তব্য করুন