নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে মজুদ করা ডিজেল ও অকটেন উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পরিচালিত এ অভিযানে ৪০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী জানান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার-এর নির্দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিরুদ্ধে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল উপজেলার নওয়াগ্রাম এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে কিলো-৩ ডিউটিতে নিয়োজিত এএসআই মোড়ল আব্দুল্লাহ আল মামুন সঙ্গীয় ফোর্সসহ নওয়াগ্রামের বাসিন্দা মোঃ পাভেল শেখ (৩০)-এর বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুটি ব্যারেলে সংরক্ষিত ২০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার অকটেন উদ্ধার করেন। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জান্নাতুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অভিযুক্ত পাভেল শেখকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা ৪০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।
ইউএনও মোঃ জান্নাতুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত জ্বালানি তেল সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় পেট্রোল পাম্পে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ বাড়ছে। এ ধরনের অনিয়ম রোধে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় থাকবে এবং ভোক্তাদের ভোগান্তি কমবে। তারা জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহল মনে করছে, অবৈধ মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন