মো: মুকিম উদ্দিন, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

জগন্নাথপুরে সানলাইট বোর্ডিংয়ের অবৈধ স্থাপনা অপসারণে মাপজোক

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় নলজুর নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত সানলাইট আবাসিক বোর্ডিংয়ের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের লক্ষ্যে মাপজোক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই মাপজোক সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার হবিবপুর গ্রামে অবস্থিত সানলাইট আবাসিক বোর্ডিংটি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী চোট মিয়ার মালিকানাধীন। বোর্ডিংটির পাশ দিয়ে একটি আর্চ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিজ নির্মাণকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সাময়িকভাবে বোর্ডিং সংলগ্ন বিদ্যুৎ লাইন ভূগর্ভস্থভাবে (মাটির নিচ দিয়ে) স্থাপন করে।

এই সাময়িক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে বোর্ডিং কর্তৃপক্ষ ভবনের সামনের অংশ তৃতীয় তলা পর্যন্ত অবৈধভাবে সম্প্রসারণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নজরে এলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, জগন্নাথপুর আবাসিক প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে অবৈধভাবে সম্প্রসারিত অংশ অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত পত্র প্রেরণ করা হয়।

উক্ত পত্র পাওয়ার পর প্রশাসনের উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে সরেজমিন তদন্ত ও মাপজোকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভবনের অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব অবস্থা যাচাই করেন। মাপজোকের সময় ভবনের সম্প্রসারিত অংশ, সীমানা ও বিদ্যমান অবকাঠামোর সঙ্গে সরকারি নীতিমালার সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা হয়।

আরো পড়ুন...  কালিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭ জন গ্রেফতার

জগন্নাথপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে অবৈধ সম্প্রসারণের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। পর্যালোচনা শেষে সরকারি বিধি অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে অবৈধ অংশ অপসারণে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই নদীর তীরবর্তী এলাকায় নিয়মবহির্ভূত নির্মাণকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন এবং প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, পরিকল্পনাবহির্ভূত ও অবৈধ স্থাপনা ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

প্রশাসন সূত্র আরও জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলায় অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিতকরণ ও অপসারণে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে, যাতে সরকারি নিয়ম-নীতি বজায় রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পানছড়ি সীমান্তে গোলাবারুদ উদ্ধার

ভাণ্ডারিয়ায় পরিবার পরিকল্পনায় অনিয়মের অভিযোগ

মহিপুরে যুব অধিকার পরিষদ সভাপতির পদত্যাগ

সেচ সংকটে মাঠে এমপি বুলবুল

ইসলামপুরে বিএনপি নেতাদের জামায়াতে যোগদান

কাঠালিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতা

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

১০

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

১১

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

১২

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

১৩

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

১৪

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

১৫

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১৬

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১৭

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

১৮

কুলিয়ারচরে মামলা পরবর্তী হুমকির অভিযোগ

১৯

কুলিয়ারচরে কৃষকের বাড়িতে হামলা, আহত ৫

২০