রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানায় কর্মরত নারী এএসআই (নিঃ) লতিফা খাতুনের বিরুদ্ধে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ঘুষ আদায়, টাকা দাবি এবং দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জিডি করা থেকে শুরু করে অভিযোগ দায়ের—প্রায় প্রতিটি সেবায় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ এক ব্যক্তি তার গাড়ির কাগজ হারিয়ে যাওয়ায় থানায় জিডি করতে গেলে এএসআই লতিফা তার কাছ থেকে ২০০ টাকা নেন। পরে জিডি জমা দেওয়ার সময় আরও ১০০০ টাকা দাবি করেন। তবে উপস্থিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে অন্য এক পুলিশ সদস্যের হস্তক্ষেপে অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে ব্যর্থ হন তিনি।
দিগ্রাম এলাকার এক ভ্যানচালক জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তার কাছ থেকে ১৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে বিদিরপুর এলাকার ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোঃ শাজাহান আলী-ও তার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তি তার আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন—
শ্রী মুকুল মিঞ্জ, মৌসুমি বেগম, মানসুরা বেগম, মিলিয়ারা, শুনিল মুর্মু, মাফিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম (ফারুক), বেলিয়ারা বেগমসহ আরও অনেকে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কারও কাছ থেকে ২০০, কারও কাছ থেকে ৫০০, আবার কারও কাছ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “টাকা ছাড়া তার কলম চলে না।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এএসআই লতিফার আচরণ ও ভাষা অত্যন্ত অপেশাদার। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে। স্থানীয়রা গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও তদন্ত কর্মকর্তার সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্তরিক হলেও একজন অধস্তন কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড পুরো থানার সুনাম প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
গোদাগাড়ীর সাধারণ মানুষ এএসআই লতিফার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের দুর্নীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে।
মন্তব্য করুন