ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলপুর গ্রামে মরহুমা আফিয়া চৌধুরীর জানাজা নামাজ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) আসর নামাজের পর ফুলপুর ঈদগাহ মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরহুমার ছোট ভাই, সাবেক জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান চৌধুরী বড় বোনের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে প্যারোলে সাময়িক মুক্তি পান। মানবিক বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাকে এই প্যারোল মঞ্জুর করে। ফলে দীর্ঘদিন পর পরিবারের সঙ্গে শোক ভাগাভাগি করার সুযোগ পান তিনি।
জানাজার সময় ফুলপুর ঈদগাহ মাঠে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ জানাজায় অংশ নেন। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় পুরো এলাকা যেন শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। উপস্থিত মুসল্লিরা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন।
জানাজা শেষে মরহুমা আফিয়া চৌধুরীকে ফুলপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফনের সময়ও স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এলাকাবাসী মরহুমার জীবনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং তার আত্মার শান্তি কামনা করেন।
এদিকে, প্যারোলে মুক্তি পাওয়া আসাদুজ্জামান চৌধুরী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করে পুনরায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। প্যারোলের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষে তাকে আবার হেফাজতে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের মতে, একজন রাজনৈতিক নেতা হয়েও ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই সহানুভূতিশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
মরহুমা আফিয়া চৌধুরীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে এলাকাবাসী তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন