সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কামারখাল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক ও জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কেন্দ্রটি অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে, ফলে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে মোট ৫টি অনুমোদিত পদ থাকলেও বর্তমানে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও একজন মিডওয়াইফ ছাড়া বাকি গুরুত্বপূর্ণ ৩টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারও সপ্তাহে মাত্র দুই দিন সেবা দেন, বাকি সময় কেন্দ্রটি কার্যত বন্ধ থাকে।
এর ফলে হাওরবেষ্টিত দুর্গম এলাকার মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী চিকিৎসার জন্য এখানে আসলেও অধিকাংশ দিন চিকিৎসক না থাকায় তারা সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে জরুরি চিকিৎসা না পাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি নিয়মিত চালু না থাকায় রোগীদের ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে সময়ের অপচয়, বাড়তি খরচ এবং দুর্ভোগ—সবই বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু নতুন জনবল নিয়োগ নয়, যারা দায়িত্বে থেকেও নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হন না, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি দ্রুত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কৃপেশ রঞ্জন রায় জানান, উপজেলার বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত জনবল সংকট নিরসন করে কামারখাল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে কার্যকর করা হলে এলাকার মানুষ আবারও স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা ফিরে পাবেন।
মন্তব্য করুন