চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল ভাতিয়া জোরপূর্বক দখল ও অবৈধ বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একটি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ইজারা পাওয়া মৎস্যজীবীরা। পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১টায় শিবগঞ্জ উপজেলার কর্নখালী ব্রিজ চত্বরে এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী বিল ভাতিয়ার ইজারা পেয়েছে দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। তবে সমিতির সদস্যদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে একটি চক্র জোরপূর্বক বিল দখল করে নেয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মাছ আহরণ করতে পারছেন না প্রকৃত ইজারাদাররা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কলমুগাড়া এলাকায় খালে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এতে শুধু মাছচাষই নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিও হুমকির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, জামবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম মেম্বার ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল কালামের নেতৃত্বে এ দখল ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের অভিযোগ। তাদের দাবি, দখলদারদের কারণে জেলেরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বক্তারা আরও বলেন, যুগ যুগ ধরে জেলে সম্প্রদায় এই বিলের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে দখলদারদের কারণে মাছ আহরণ বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি অস্ত্র প্রদর্শন করে হামলা ও মারধরের অভিযোগও তোলা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম কালু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক আলী, সদস্য জিন্নুর আলী, দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আকতারুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকসহ অনেকে।
এসময় স্থানীয় মৎস্যজীবী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত অবৈধ দখল ও বাঁধ অপসারণ করে সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানান।
মন্তব্য করুন