পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে ঢেকে গেছে একটি কথিত মিথ্যা মামলার কারণে। স্বপ্ন ছিল বড় কিছু হওয়ার, কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ আজ থমকে দাঁড়িয়েছে আইনি জটিলতা, ভয় এবং মানসিক চাপে।
হাসিবুন নাহার সিনহা, গলাচিপা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদের কন্যা এবং গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী হিসেবে পরিচিত এই শিক্ষার্থী বর্তমানে এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সময়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার একটি ঘটনায় তাকে জড়ানো হয়। অথচ ওই সময়েই সে পরীক্ষার হলে বসে ইংরেজি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল বলে পরিবারের দাবি। তবুও মামলার ১২ নম্বর আসামি হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এরপর থেকেই বদলে যায় তার স্বাভাবিক জীবন। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে পারেনি সে। ভয়ের মধ্যে লুকিয়ে থেকে তাকে অংশ নিতে হয়েছে বাকি পরীক্ষাগুলোতে। এতে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হলেও সে হাল ছাড়েনি।
সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে হাসিবুন নাহার সিনহা গলাচিপা উপজেলা থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে তার মেধা ও দৃঢ় মনোবলের প্রমাণ দিয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তার হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন। তবে এই অর্জনের আনন্দও তার কাছে পূর্ণতা পায়নি, কারণ মনের মধ্যে রয়ে গেছে মামলার চাপ ও অনিশ্চয়তা।
হাসিবুন জানায়, “আমাকে যদি এই মামলায় জড়ানো না হতো, তাহলে আমি আরও ভালো ফলাফল করতে পারতাম। মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার সুযোগ ছিল।”
বর্তমানে তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে, যা তার পড়াশোনা ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিবারও বিষয়টিকে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এবং স্বপ্নবাজ কিশোরী হিসেবে হাসিবুন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে। তার আবেগঘন আহ্বানে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম এহসানুল হক মিলন এবং পটুয়াখালী–৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
তার আকুতি—তিনি যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন এবং নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন।
এই ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে—একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ কি মিথ্যা অভিযোগের বোঝায় নষ্ট হয়ে যাবে, নাকি সে পাবে ন্যায়বিচার? এখন সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন