রাজশাহী মহানগরীতে পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্ণহার ও কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিচালিত এসব অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট ও দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কর্ণহার থানার ধর্মহাটা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে ২ মার্চ রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা এলাকায় স্থাপিত পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পবা থানার বসন্তপুর গ্রামের মো: মকসেদ আলীর ছেলে মো: মিঠু ইসলাম (৩৩); কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম চারখুটার মোড় এলাকার মো: মাহাবুবুর রহমানের ছেলে মো: নিশার আহম্মেদ সাগর (২৭); বগুড়া জেলার আদমদীঘি থানার সান্তাহার গ্রামের বাসিন্দা (বর্তমানে বোয়ালিয়া থানার ঘোড়ামারা এলাকায় বসবাসরত) মো: মঞ্জুরুল হকের ছেলে মো: জিম (২৫) এবং রাজপাড়া থানার ভাটাপাড়া গ্রামের মো: ফজলুল হকের ছেলে মো: জনি (৩৬)। তারা সবাই বর্তমানে রাজশাহী মহানগর এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চেকপোস্টে গ্রেপ্তারকৃতদের দেহ তল্লাশি করে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫০০ মিলিলিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক বিক্রয় ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, মহানগরীতে মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব দূর করতে এবং তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন