পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়িতে তিন ব্যক্তিকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার কমলছড়ি ইউনিয়নের রোয়াসাইপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জানা গেছে, সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি জোনের আওতাধীন জিরো মাইল আর্মি ক্যাম্পের একটি টহল দল নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একদল ব্যক্তিকে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কাজে লিপ্ত অবস্থায় হাতেনাতে আটক করা হয়। আটককৃতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ পাহাড়ের মাটি এবং একটি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়, যা পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আটক তিন ব্যক্তিকে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জিম্মায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে পূর্বে পাহাড় কাটার একাধিক চিহ্ন পাওয়ায় বিষয়টি অধিকতর তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রমে সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য সংগ্রহ করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে অবৈধ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা স্থানীয় জনজীবন ও অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। পাশাপাশি পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্যও বিঘ্নিত হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন