যশোর শহর ও শহরতলীতে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি ও আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত দুই তৃণমূল কর্মী মাসুদ রানা ও আমিনুর রহমান আমন স্থানীয় কিছু নবাগত ও আঞ্চলিক নেতার আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ‘পাতি নেতা’র অযথা খবরদারিতে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন, যা দলের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা পেশায় একজন প্রেস ব্যবসায়ী। অন্যদিকে পাশ্ববর্তী চাঁচড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমিনুর রহমান আমন একজন পার্টস ব্যবসায়ী এবং ১০ নম্বর চাঁচড়া ইউনিয়ন শাখা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি। বর্তমানে তিনি বিএনপির নতুন কমিটিতে পদ পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন।
মাসুদ রানা মৃত রুহুল আমিন মিয়ার ছেলে এবং আমিনুর রহমান আমন মৃত আজিজুর রহমানের সন্তান। স্থানীয়দের মতে, ২০০৮ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন, মিছিল ও কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তারা। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে একাধিকবার পুলিশি চাপের মুখে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছে এবং নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও নিয়মিত বসতে পারেননি।
তাদের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, কঠিন সময় পার করতে গিয়েই তাদের মধ্যে মাছ ধরার অভ্যাস গড়ে ওঠে, যা এখনো তাদের অবসর বিনোদনের একটি মাধ্যম। এ কারণে এলাকাবাসীর কাছে তারা মজার ছলে ‘মেছো বিএনপি’ হিসেবেও পরিচিত।
সম্প্রতি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক উদ্যোগ—ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার্স কার্ড—নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন এই দুই কর্মী। তারা জানান, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। যদিও এসব কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব সরকারের, তবুও স্থানীয়ভাবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে তারা নিজ উদ্যোগে কাজ করছেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
তবে একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, কিছু নতুন ও প্রভাব বিস্তারকারী নেতার অযথা হস্তক্ষেপ ও কর্তৃত্বমূলক আচরণে তৃণমূল কর্মীরা বিব্রত হচ্ছেন। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে দলের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
মাসুদ ও আমন আশা প্রকাশ করেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও তৃণমূলের কর্মীদের মূল্যায়নে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্ব কার্যকর ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে তারা চান, প্রকৃত কর্মীদের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করে দলকে আরও সুসংগঠিত করা হোক।
মন্তব্য করুন