কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের বরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন বরণ, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়, সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিদায় এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল (১৯ এপ্রিল ২০২৬) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধুবইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আঃ সাত্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবীরা, তাদের মধ্যে কফের মেম্বার, রাহাজুল মেম্বার, ফারহাদ কামরুল ইসলাম, আবু আখতারুজ্জামানসহ আরও অনেকে। এছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মো. আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নবাগত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন আ. খালেক, আ. মতিন, জিন্নাত, মাহফুজা ও পারভীন সুলতানা ম্যাডাম। তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবনের প্রতিটি ধাপে সততা, পরিশ্রম ও নৈতিকতা বজায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। শিক্ষাজীবনের অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যৎ পথচলায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাবেক প্রধান শিক্ষক মহিবুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা। বিদায়ী বক্তব্যে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মজীবনে আমি সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও মানসম্মত শিক্ষাদানের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছি। এই বিদ্যালয় আমার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষকতা জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পার করে আজ বিদায় নিতে হচ্ছে, যা সত্যিই আবেগঘন।” তিনি সকল শিক্ষার্থীর মঙ্গল কামনা করেন এবং শিক্ষকদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মনোবল বাড়াতে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন