রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার নুরপুর মহল্লায় অবস্থিত পুকুরটিতে রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির কার্পজাতীয় মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে পুকুরটিতে বিষ প্রয়োগ করে এই ক্ষতি সাধন করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরটির মালিক সোহেল রানা, যিনি তাহেরপুর পৌরসভা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে আছেন। এর আগে গত ২১ মার্চ ঈদের রাতে তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারী ‘সিক্সস্টার’ বাহিনীর ক্যাডাররা তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশের প্রায় ১২ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন। তবে আত্মগোপনে থাকার কারণে বর্তমানে তার স্বজনরাই পুকুরটির দেখাশোনা করছিলেন। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও হুমকির কারণে সেখানে কোনো পাহারাদার রাখা সম্ভব হয়নি, যা দুর্বৃত্তদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
অজ্ঞাত স্থান থেকে মুঠোফোনে সোহেল রানা বলেন, “রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমি আত্মগোপনে আছি। এর আগেও আমার কয়েকটি পুকুর দখল হয়ে গেছে। বাড়ির পাশের এই পুকুরটি আমার স্বজনরা দেখাশোনা করছিল। হুমকির কারণে পাহারাদার রাখা সম্ভব হয়নি। কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।” তিনি এই ঘটনায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি করেন।
তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, “এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে এখনো আসেনি। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন