লালমনিরহাটের পাটগ্রামে একটি তেল পাম্পে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির তথ্য জানতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পাম্প কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।
রোববার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মির্জাকোর্ট এলাকায় অবস্থিত হক ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাম্পে অনিয়ম করে পূর্বে ক্রয় করা জ্বালানি তেল বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ পেয়ে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। এ সময় পাটগ্রাম রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম সবুজ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাফিউল ইসলাম সাফিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, তথ্য জানতে চাইলে পাম্প কর্তৃপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা সৃষ্টি করে তাদের হেনস্তা করে। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও ওঠে।
ভুক্তভোগীরা জানান, সাংবাদিক আব্দুস সামাদের মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং সেটি ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া আব্দুল মান্নানের কাছে থাকা প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। এ সময় ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন না করতে হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুস সামাদ বলেন, “অনিয়মের খবর পেয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে আমাদের ওপর হামলা করা হয়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, “অনিয়ম তুলে ধরতে গেলে আমাদের ওপর চড়াও হওয়া হয়েছে, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তবে অভিযুক্ত হক ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. রাজিব হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো হামলা করিনি, বরং তারাই বিশৃঙ্খলা করেছেন।”
এ ঘটনায় সাংবাদিক আব্দুস সামাদ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন