সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে পৌরসভার গুমানতলি এলাকায় বসতবাড়ির সীমানা বেড়া নিয়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন গুমানতলি গ্রামের মৃত আব্দুল আজীজ গাজীর ছেলে আজিজুল গাজী, আজবাহার গাজী, আকবর আলী গাজী, সিদ্দিক গাজী, আজগার আলী, আজিজুল গাজীর স্ত্রী জাহানারা বেগম, মেয়ে আমেনা খাতুন, ছেলে ফজলুর রহমান ও নাছিম হোসাইন, সিদ্দিক গাজীর স্ত্রী তাসলিমা খাতুন ও ছেলে আবু ইছা। গুরুতর আহতদের মধ্যে ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি ৪ জন শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজুল গাজী ও নজরুল গাজী পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জেরে বুধবার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দফায় দফায় ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ফজলু গাজী অভিযোগ করেন, নজরুল গাজী ও মোশাররফের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ১০-১২ জনের একটি দল প্রথমে আকবর গাজী ও সিদ্দিক গাজীর ওপর হামলা চালায়। পরে তারা রাস্তার ওপর আজিজুল গাজী ও আজবাহার গাজীকেও বেধড়ক মারধর করে। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে দা, সাবল ও কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে অন্তত ১১ জনকে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. স্নিগ্ধা জানান, “মারামারির ঘটনায় ১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনের মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে।”
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদুর রহমান বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তবে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন