পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক উজ্জ্বল মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাফিজ পাঠাগার। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের অনন্য উদাহরণ হিসেবে এ উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকালে উপজেলার হাফিজ ভিলা নিজস্ব ভবন প্রাঙ্গণে এ সহায়তা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি এক শতাধিক ব্যক্তির হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়, যা তাদের ঈদের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
এই মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার অসংখ্য মানুষের মুখে হাসি ফুটে ওঠে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই সহায়তা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উদ্যোগটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, হাফিজ পাঠাগারের সভাপতি এবং মেয়র পদপ্রার্থী শাহ আবির আহাম্মেদ বিপুল মাস্টার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন তা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করা যায়। সমাজের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। সেই লক্ষ্য থেকেই আমাদের এই আয়োজন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।” এ সময় তিনি উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ লিটন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল আহাম্মেদ পাপন, ছাত্রনেতা আল আমিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রস্তাবিত যুগ্ম আহ্বায়ক জনি শাহ, ইসলামপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ বন্দ এবং সত্য ছায়া সামাজিক সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফিয়ান জামান বিশালসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, শুধু ঈদ নয়, বরং সারা বছরজুড়েই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের মূল লক্ষ্য। মানবিক সহায়তার এই ধারা অব্যাহত রেখে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং একটি কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মন্তব্য করুন