নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সড়ক পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় নাজমা বেগম (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের অলিপুর এলাকায় কবিরহাট-সোনাপুর সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত নাজমা বেগম অশ্বদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. বাচ্চুর স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করতেন। কয়েকদিন আগে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজ গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশে সময় কাটানোর মধ্যেই ঘটে যায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমা বেগম শ্বশুরবাড়ি থেকে নিকটবর্তী বাজারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। অলিপুর এলাকায় পৌঁছে তিনি কবিরহাট-সোনাপুর সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করলে হঠাৎ দ্রুতগতিতে আসা একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে লুটিয়ে পড়েন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কারটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ঘটনার আকস্মিকতায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ওই সড়কে প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল করে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময়ই থাকে।
এ বিষয়ে সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম চন্দ্র ভট্রাচার্য বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ পুলিশকে অবহিত করেননি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কে গতিনিয়ন্ত্রণ, পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন ছাড়া এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন