নোয়াখালী জেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১৪০০ লিটার ডিজেল উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) দিবাগত রাতে সুধারাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে সুধারাম থানাধীন খলিফার হাট এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল অবস্থান নেয়। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনা এবং ডিবির ওসির সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পরবর্তীতে আরও তথ্যের ভিত্তিতে রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে চর মটুয়া ইউনিয়নের উদয় সাধুর হাট দক্ষিণ বাজার এলাকায় একটি তেল স্টোরে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে ওই স্টোরে অবৈধভাবে মজুদ রাখা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, মোট ১৪০০ লিটার ডিজেল বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি লাল রঙের ভাউচার (তেল পরিবহন) গাড়িও জব্দ করা হয়, যা দিয়ে তেল পরিবহন করা হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মো. রাশেদ (৩৮), মো. নাছির উদ্দিন (৪৭), মো. শিহাব উদ্দিন (২২) এবং মো. মাকসুদ (৩২)। তাদের সবার বাড়ি সুধারাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে মজুদ রাখতেন এবং পরে সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করতেন। এতে স্থানীয় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ জ্বালানি তেল মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার করা হবে। জনস্বার্থে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তৎপরতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।
মন্তব্য করুন