
নড়াইলের কালিয়া ও সদর উপজেলায় পৃথক দুটি সহিংস ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুটি ঘটনাই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
কালিয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে যুবক নিহত- নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানাধীন কলাবাড়ীয়া ইউনিয়নের বোয়ালেরচরপাড়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে সাব্বির (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম জানান, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাব্বিরের সঙ্গে তার চাচা রুহুল মোল্যা ও চাচাতো ভাই নাদের ও নাহিদের মধ্যে জমি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত সাব্বিরকে প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত এলাকায় পৌঁছায়নি।
এ ঘটনায় নিহত সাব্বিরের বাবা তৌহিদুল ইসলামও গুরুতর আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ওসি আব্দুর রহিম বলেন, “ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
নড়াইল সদরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৮- অপরদিকে, নড়াইল সদর উপজেলায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলার অভিযোগে আটজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার চুনখোলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
আহতরা হলেন—সদর উপজেলার সিংগা গ্রামের সানোয়ার মোল্যা, শহিদুল মোল্যা এবং বড়গাতী গ্রামের ইমাম জিন্নাত, সুজন শেখ, শহিদুল শেখ, হাফিজ সরদার, মহিদুল মোল্যা ও সাইফুল ইসলাম।
আহতদের স্বজনদের দাবি, মামলা সংক্রান্ত কাজে নড়াইল শহরে যাওয়ার পথে চুনখোলা মোড়ে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা ও স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ওসি ওলি মিয়া বলেন, “এটি পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক- পুলিশ জানায়, উভয় এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন