যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মাহিদিয়া গ্রামে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও শারীরিকভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক সাবেক জামাইয়ের পক্ষ নিয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে সাবেক শ্বশুর লিয়াকতের বাড়ি ও চায়ের দোকানে হামলা চালায়। এ সময় শ্বশুর ও শাশুড়িকে মারধর করে জখম করা হয় এবং দোকান ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
ভুক্তভোগী লিয়াকত অভিযোগ করে বলেন, গত ২ জুন বিকেলে আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তার চায়ের দোকান ও সংলগ্ন বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা দোকানের নগদ টাকা ও মালামাল লুট করে নেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, হামলার সময় তিনি ও তার স্ত্রী গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি আতঙ্কে রয়েছেন এবং চিকিৎসাও নিতে পারছেন না বলে দাবি করেন। তার শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পেছনে সাবেক জামাই আব্দুর রউফের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তিনি মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের সলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিদেশ ফেরত এবং পূর্বে মাদক মামলায় জেল খেটেছেন। পরে পারিবারিক বিরোধের জেরে সাবেক শ্বশুরবাড়িতে চাপ সৃষ্টি ও হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর মেয়ে খাদিজার সঙ্গে তার তালাক হয়। এরপর থেকেই হুমকি-ধমকি ও সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা বাড়তে থাকে বলে দাবি করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় বহিরাগতদের উপস্থিতি ও মহড়ার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে হরিহরনগর ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি আগে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ছিল এবং বর্তমানে এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন