গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাবার কাছ থেকে নেওয়া যৌতুকের ১৮ লাখ টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী ও ননদের স্বামীর বিরুদ্ধে গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকি এবং বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ মৌসুমী আক্তার শুক্রবার রাতে কালিয়াকৈর থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর গ্রামের মো. সেলিম হোসেন (৩৫) এর সঙ্গে মৌসুমী আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১২ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিয়ের পর বিদেশে যাওয়ার সময় স্বামী সেলিম হোসেন তার বাবার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা নেন। পরে প্রায় দুই বছর আগে কালিয়াকৈর উপজেলার মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় স্বামীর অংশের জমিতে বাবার দেওয়া আরও ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একটি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়। ওই বাড়িতেই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন ভুক্তভোগী।
তিনি আরও জানান, বাড়ির চারটি কক্ষ ভাড়া দিয়ে সেই আয় দিয়ে তিনি ও তার মেয়ে জীবনযাপন করছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ননদের স্বামী মো. ফারুক হোসেন (৪১) এর বিরুদ্ধে পূর্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।
এরপর জামিনে বের হয়ে ফারুক হোসেনের প্ররোচনায় স্বামী সেলিম হোসেন পরিবারে ভরণপোষণ বন্ধ করে দেন এবং পরবর্তীতে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এরপর ননদের স্বামীর মাধ্যমে অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।
সবশেষ গত ৪ জুন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে স্বামী সেলিম হোসেন ও ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি দল তাকে বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় যৌতুকের ১৮ লাখ টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বাড়ি না ছাড়লে তাকে ও তার নাবালিকা মেয়েকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মৌসুমী আক্তারের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন