
চারঘাট উপজেলায় ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিএসটিআই রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে চারঘাট উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভেজাল খাদ্য উৎপাদনের দায়ে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর উপকরণ জব্দ ও ধ্বংস করা হয়।
মোবাইল কোর্ট চলাকালে চারঘাট উপজেলার রায়পুর এলাকায় অবস্থিত *মেসার্স মায়ের দোয়া বেকারী*তে অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য উৎপাদনে নিষিদ্ধ কৃত্রিম রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করছে, যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ব্যবহৃত নিষিদ্ধ রং ও কেমিক্যাল জব্দ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব ক্ষতিকর উপকরণ ভবিষ্যতে ব্যবহার না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা প্রদান করেন।
একই অভিযানে চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর এলাকায় অবস্থিত *রাসেল গুড় ফ্যাক্টরী*তে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে গিয়ে মোবাইল কোর্ট দেখতে পায়, ফ্যাক্টরিটিতে প্রাকৃতিক উপায়ে গুড় প্রস্তুত না করে চিনি, ডালডা, চুন ও নন-ফুডগ্রেড রং মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করা হচ্ছে। এসব উপাদান মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। অভিযানে প্রায় দুই মণ বা আনুমানিক ৮০ কেজি ভেজাল গুড় জব্দ করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়। এ গুরুতর অপরাধে ফ্যাক্টরিটির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিএসটিআই রাজশাহী বিভাগ ও চারঘাট উপজেলা প্রশাসনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এ মোবাইল কোর্টে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাহাতুল করিম মিজান। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই রাজশাহী বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। অভিযানে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চারঘাট থানা পুলিশের সদস্য এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএসটিআই রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়, জনস্বার্থ রক্ষা, ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধ এবং নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে বিএসটিআই। ভবিষ্যতেও যারা খাদ্যে ভেজাল মিশিয়ে জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে প্রতারণা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বিএসটিআই ও উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিয়মিত ও ধারাবাহিক অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন