
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. মো. সাইদুজ্জামান কামাল বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে শহীদ মো. নয়নের আত্মত্যাগই তার রাজনৈতিক পথচলার প্রেরণা। শহীদ নয়নের রক্তে ভেজা বাঞ্ছারামপুরে তৃণমূল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলাই তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, শহীদ নয়ন যে স্বপ্ন নিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি নৈতিক দায়িত্ব। বাঞ্ছারামপুরের সাধারণ মানুষ যেন ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি কাজ করতে চান।
ড. মো. সাইদুজ্জামান কামাল একজন খ্যাতিমান কৃষি প্রকৌশলী। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) ১৯৯০-৯১ সেশনের ছাত্রদল মনোনীত সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) ছিলেন। এছাড়া তিনি জাতিসংঘের সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আমিন সজলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও শহীদ মো. নয়ন মিয়ার পিতা মো. রহমতুল্লাহ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ড. মোহাম্মদ কামারুল হক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
ড. কামাল বলেন, বাঞ্ছারামপুরের মানুষের মৌলিক অধিকার—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই হবে তার প্রথম অগ্রাধিকার। কালিকাপুর থেকে মরিচাকান্দি, কড়িকান্দি ফেরিঘাট থেকে জীবনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে ‘প্লাস কানেকশন’ ভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মূল শক্তি হলো যুবসমাজ। এই যুবসমাজকে পরিকল্পিতভাবে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে স্থানীয় পর্যায়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা নিজ এলাকায় থেকেই সম্মানজনক জীবিকা গড়ে তুলতে পারে।
নদীমাতৃক বাঞ্ছারামপুরে শিল্পায়নের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ড. কামাল বলেন, নদীকে কেন্দ্র করে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাত গড়ে তোলা সম্ভব। এতে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে পুরো অঞ্চলে।
খেটে খাওয়া মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছে, সেই আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারে গণমানুষের আশা-প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোই হবে তার রাজনৈতিক সংগ্রামের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য।
মন্তব্য করুন