দিনাজপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তুলা চাষ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের লাভজনক এ অর্থকরী ফসলের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে বিরামপুরে কৃষকদের মাঝে তুলার চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার সকালে বিরামপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তুলা উন্নয়ন বোর্ড, ঠাকুরগাঁও জোনের উদ্যোগে এবং তুলা ফসলে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন। তিনি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, “এই অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তুলা একটি উচ্চমূল্যের অর্থকরী ফসল। ধানের তুলনায় এর বাজারমূল্য অনেক বেশি। কৃষকদের তুলা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার প্রতি বছর ২৫ হাজার টাকা করে প্রণোদনা প্রদান করবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।” একই সঙ্গে দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান।”
অনুষ্ঠানে ১০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে হাইব্রিড তুলার বীজ, সার, কীটনাশক এবং পিজিআর (প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটর) বিতরণ করা হয়। এছাড়া কৃষকদের মধ্যে ৩০০টি শিমুল, মসলিন ও ট্রি কটন জাতের তুলা গাছের চারা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আফজাল হোসেন, তুলা উন্নয়ন বোর্ড রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক জাফর আলী, বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিনা খাতুন এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায়।
এ সময় ঠাকুরগাঁওয়ের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার, রংপুর অঞ্চলের কীট-পতঙ্গ বিশেষজ্ঞ সামিমা নাসরীন, দিনাজপুরের কটন অ্যাগ্রোনমিস্ট মো. সালাহউদ্দিনসহ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, তুলা চাষের মাধ্যমে কৃষকরা অধিক লাভবান হতে পারবেন এবং দেশের বস্ত্রশিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এ ধরনের প্রণোদনা ও সহায়তা কৃষকদের তুলা চাষে আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
মন্তব্য করুন