
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি-সমর্থিত জোট প্রার্থীর উদ্যোগে এক নির্বাচনী পথসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আয়োজিত এ পথসভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সমাজসেবক জনাব এম এ খালেক, পিএসসি। জোট প্রার্থী ও প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনাব জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার এবং অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন জিয়া। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সাবেক ছাত্রনেতা ভিপি এ কে এম মুসা।
পথসভায় বক্তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, “বাঞ্ছারামপুরের মানুষ পরিবর্তন চায়। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে আমি এই এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান খাতে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করব। ন্যায়বিচার ও জনকল্যাণই হবে আমার রাজনীতির মূল দর্শন।” তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটাধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, বিএনপি-সমর্থিত জোট জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছে। আগামী নির্বাচন জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ—এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তারা।
পথসভা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ‘মাতাল’ প্রতীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।
পথসভাকে কেন্দ্র করে বাঞ্ছারামপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পেরে তারা আশাবাদী এবং আগামীর রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যাশা করছেন।
মন্তব্য করুন